Visit our Tech & AI Guides – Solve Your Tech Issues Now! Explore now

বাংলায় সিভি লিখার সঠিক ও আপডেট নিয়ম ২০২৫।

বাংলায় সিভি লিখার সঠিক ও আপডেট নিয়ম। বাংলায় চাকরির জন্য একটি আদর্শ মানের সিভি লেখার নিয়ম ২০২৫ ।চাকরির জন্য সিভি লেখার যে যে নিয়ম আবশ্যয় মনে রাখবেন

এই ব্লগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমি আলোচনা করেছি, বিষয়টি হলো ২০২৫ সালে বাংলায় সিভি লিখার সঠিক ও আপডেট নিয়ম। একটি প্রফেশনাল সিভি কিভাবে তৈরি করবেন? চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে CV আপনার জন্য মূলত প্রথম দরজার টিকিট। একটি সিভি আপনার প্রথম পরিচয় পত্র যোগ্যতার প্রমাণ, পেশাদারিত্বের প্রতিফলন ও শর্ট লিস্ট হওয়ার মাধ্যম। তাই চাকরির বাজারে আপনার দক্ষতাকে যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে খুব সুন্দর ভাবে একটি সিভি (Curriculum Vitae) বা বাংলায় জীবন বৃত্তান্ত তৈরি করা শিখতে হবে। ২০২৫ সালে এসে বর্তমান চাকরির বাজারে যদি আপনি নিজের সিভি নিজে তৈরি করতে না পারেন তাহলে আপনি একধাপ পিছিয়ে গেলেন সুতরাং আপনি এই ব্লগটি সম্পূর্ণভাবে মনোযোগ সহকারে পড়ুন আমি আশা করি এতে আপনি অবশ্যই উপকৃত হবেন। আপনি চাইলে আপনার পছন্দের ব্লগটি এখানে পড়তে পারেন।

বাংলায় সিভি লিখার সঠিক ও আপডেট নিয়ম ২০২৫।
বাংলায় সিভি লিখার নিয়ম 


Table of Contents

সিভি বা CV কি?

সিভি কি জানার আগে সংক্ষেপে এর উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করি। CV শব্দটির পূর্ণরূপ হল Curriculum Vitae। সিভি শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে এসেছে। কারিকুলাম মানে হল চলার ধারা বা জীবন পথ ভিটা মানে হল জীবন অর্থাৎ কারিকুলাম ভিটা মানে দাঁড়াই “জীবনের পথ বা চিত্র”। বাংলায় সিভি এর কাছাকাছি অর্থ হলো জীবনবৃত্তান্ত বা জীবনপঞ্জি বাংলাদেশে সাধারণত একে সিভি নামেই সবাই চেনে তবে সরকারি বা একাডেমিক ক্ষেত্রে একে “জীবনবৃত্তান্ত” বলা হয়।
সুতরাং সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত হলো একজন ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, অর্জন ও ব্যক্তিগত তথ্যের সংক্ষিপ্ত লিখিত পরিচিতিৃ। অর্থাৎ আপনার পুরো জীবনের শিক্ষা ও কাজের পথচচিত্র কে লিখিতভাবে উপস্থাপন করায় হলো জীবনবৃত্তান্ত।

Resume (রেজ্যুমে) কি?

রেজ্যুমে কি? (বিস্তারিত), Resume শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হলো “সারসংক্ষেপ”। রেজ্যুমে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ পৃষ্ঠা হয়ে থাকে। শুধুমাত্র চাকরির সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ্যতা কাজের অভিজ্ঞতা দক্ষতা ইত্যাদি বর্ণিত থাকে। একটি রেজ্যুমে লেখার নিয়ম এখানে পড়ুন।

সিভি ও রেজ্যুমে এর মধ্যে পার্থক্য কি?

সিভি হলে বিস্তারিত জীবনপঞ্জি যা সাধারণত থেকে পৃষ্ঠা বিশিষ্ট হয়ে থাকে অপরদিকে রেজ্যুমে চাকরির সাথে সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্যের উপস্থাপনা মাত্র যা সাধারণত থেকে পৃষ্ঠা বিশিষ্ট হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সাধারণত আমরা যেটাকে "CV" বলি, সেটা আসলে Resume-এর ফরম্যাট।

ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)

সিভির প্রথম অংশে ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল ইনফরমেশন দিতে হবে।
যেমন:
  • নাম (Full Name): [আপনার পূর্ণ নাম]
  • ঠিকানা (Address): [বর্তমান ঠিকানা / স্থায়ী ঠিকানা]
  • ফোন নাম্বার (Mobile Number): [+8801XXXXXXXXX]
  • ই-মেইল (Professional Email): [[email protected]]
  • LinkedIn / Portfolio: [URL] (যদি থাকে)
  • ইমেইল অবশ্যই প্রফেশনাল হতে হবে (যেমন: [email protected])।
  • LinkedIn প্রোফাইল থাকলে সেটি আপডেটেড থাকতে হবে।
  • যদি আপনার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা পোর্টফোলিও থাকে সেটি যোগ করলে সিভির মান আরও বাড়বে।

ক্যারিয়ার অবজেকটিভ / প্রোফাইল (Career Objective / Profile Summary)

Career Objective / Profile Summary  হলো সিভির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে সংক্ষেপে আপনি আপনার দক্ষতা লক্ষ্য ও আপনি নিয়োগকর্তার কিভাবে উপকারে আসবেন তা লিখতে হবে।
ক্যারিয়ার অবজেকটিভের (Career Objective) – উদাহরণসমূহ

ফ্রেশার / স্টুডেন্টদের জন্য:
আমি এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চাই যেখানে আমি আমার জ্ঞান, দক্ষতা এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারবো এবং প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে অবদান রাখতে পারবো। পাশাপাশি পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে চাই।

অভিজ্ঞ প্রার্থীর জন্য:
আমার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে চাই। আমি এমন একটি চ্যালেঞ্জিং পজিশনে কাজ করতে চাই যেখানে পেশাগত উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পূরণ দুটোই সম্ভব।

জেনেরিক (সকল ক্ষেত্রের জন্য):
আমি এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চাই যেখানে আমার জ্ঞান, দক্ষতা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারও সমানভাবে উন্নত হবে।

লিখার সময় খেয়াল রাখবেন:
  • “Hardworking”, “Dedicated”, “Teamwork”, “Problem Solving”, “Adaptability” – এসব শব্দ ব্যবহার করলে প্রফেশনাল দেখায়।
  • অতিরিক্ত বড় করবেন না (৩–৪ লাইনে শেষ করবেন)।
  • আপনার টার্গেট জব / ফিল্ড অনুযায়ী শব্দ বাছাই করবেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Qualifications)

শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Qualifications) অংশটা সাধারণত টেবিল বা লিস্ট আকারে দেওয়া হয় যাতে নিয়োগকর্তা সহজে বুঝতে পারেন। আমি একটা স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাট দিচ্ছি।

ডিগ্রি / কোর্স প্রতিষ্ঠান বোর্ড / বিশ্ববিদ্যালয় বছর ফলাফল (CGPA/Division)
ডিগ্রি[ইউনিভার্সিটি]
[বোর্ড]
[সাল]

[ফলাফল]
ডিগ্রি [ইউনিভার্সিটি]
[বোর্ড]
[সাল]
[ফলাফল]
এইচ.এস.সি [আপনার কলেজের নাম] [বোর্ড] [সাল] [ফলাফল]
এস.এস.সি [আপনার স্কুলের নাম] [বোর্ড] [সাল] [ফলাফল]

  • সর্বশেষ ডিগ্রি থেকে শুরু করে (Reverse Chronological Order) লিখতে হবে।
  • ডিগ্রির নাম, বিষয়, CGPA/Division, প্রতিষ্ঠান, বছর – এগুলো যেন থাকে।

অভিজ্ঞতা (Work Experience) (যদি থাকে)

অভিজ্ঞতা (Work Experience) অংশটা CV-তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে এমনভাবে লিখতে হবে যাতে নিয়োগদাতা সহজেই বুঝতে পারে আপনি কোথায় কাজ করেছেন, কী দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং আপনার সাফল্য বা অর্জন কী ছিল।

যেমন:
  • কোম্পানির নাম: [Company Name]
  • পদবী: [Job Title]
  • কাজের সময়কাল: [Start Date – End Date]
দায়িত্ব ও সাফল্য (Responsibilities & Achievements):
  1. [প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা দায়িত্ব]
  2. [দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা দায়িত্ব]
  3. [বিশেষ সাফল্য/achievement]

দক্ষতা (Skills)

দক্ষতা (Skills) সেকশন সিভিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নিয়োগকর্তাকে আপনার প্রফেশনাল সক্ষমতার দ্রুত ধারণা দেয়। সঠিকভাবে সাজালে আপনার সিভি আরও প্রফেশনাল ও আকর্ষণীয় দেখাবে। চ্যাট জিপিটি কে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানতে চাইলে এই ব্লগটি চ্যাট জিপিটি কি সম্পন্ন পড়ুন।

  1. টেকনিক্যাল স্কিল (যেমন: Microsoft Office, Programming, Graphic Design)
  2. Soft Skills (যেমন: Communication, Leadership, Teamwork)
  3. Language Skills (যদি থাকে): যেমন: Bengali – Native, English – Professional Proficiency
  4. Job relevance: শুধুমাত্র সেই স্কিল লিখবেন যা apply করা position এর জন্য প্রাসঙ্গিক।

সার্টিফিকেট ও প্রশিক্ষণ (Certifications & Training)

সার্টিফিকেট ও প্রশিক্ষণ (Certifications & Training) অংশটি CV-তে আপনার অতিরিক্ত যোগ্যতা ও বিশেষ দক্ষতা দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। এটাকে সংক্ষিপ্ত, প্রফেশনাল ও reverse chronological order-এ সাজানো উচিত।

কিভাবে Certifications & Training উল্লেখ করবেন –

  • সার্টিফিকেট / কোর্সের নাম – প্রতিষ্ঠান / সংস্থা [Completion Year / Month]
  • সংক্ষিপ্ত বর্ণনা বা অর্জন (যদি থাকে)
  • সংক্ষেপে উল্লেখ করতে পারেন কোর্সের বিষয় বা অর্জিত স্কিল।
উদাহরণ –
  • IELTS (Band 7.0) – British Council (2025)
  • Graphic Design Certification – Adobe / Self-Learning (2024)
  • Digital Marketing & SEO Training – reviveupskill.com / Online Course (2024)
  • C++ Programming Fundamentals – Self-Learning (2025)
  • AI & Neural Networks Training – Self-Learning (2025, Ongoing)

ভাষাগত দক্ষতা (Language Proficiency)

CV-তে Language Proficiency লেখার নিয়ম: Structure / Format

[ভাষা]–[দক্ষতার স্তর (Proficiency Level)]

উদাহরণ:
Language Proficiency:
  • Bengali – Native
  • English – Professional Proficiency
  • Arabic – Intermediate
Native / Mother Tongue – মাতৃভাষা
Fluent – সাবলীলভাবে বলতে ও লিখতে সক্ষম
Professional – কাজের পরিবেশে ব্যবহারযোগ্য
Intermediate / Basic – সীমিত জ্ঞান

কিছু টিপস:
  1. শুধুমাত্র ভাষার নাম ও দক্ষতার স্তর উল্লেখ করুন।
  2. শুধু সেই ভাষাগুলো উল্লেখ করুন যা apply করা চাকরিতে কাজে আসবে।
  3. Speaking, Listening, Reading, Writing স্কোর গুলো আলাদা করে উল্লেখ করা যায়।

রেফারেন্স (References)

রেফারেন্স (References) CV-এর শেষ অংশে থাকে।
উদাহরণ:
Md. Rahim – Senior Lecturer
National University, Bangladesh
Phone: +880-1711-XXXXXX | Email: [email protected]

Sara Akter – Project Supervisor
Creative Studio, Dhaka
Phone: +880-1811-XXXXXX | Email: [email protected]

[রেফারেন্স ব্যবহার করার আগে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিন]

CV-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো হলো:
  • Career Objective
  • Education
  • Skills
  • Work Experience
  • Reference
কারণ এগুলো নিয়োগকর্তার কাছে সবচেয়ে আগে চোখে পড়ার বিষয়। আপনি এআই সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হলে এই ব্লগটি পড়তে পারেন।

Post a Comment

We’d love to hear what you think! Feel free to share your thoughts in the comments below.
Revive Upskill Welcome to WhatsApp chat
How can we help you today?
Type here...